মিডিয়ার প্রচারের বাইরে গ্রামবাংলায় নিরবে বাড়ছে লাল ঝান্ডা, বিজেপি নয় বামপন্থীদের উত্থানই তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের!
বুলবুল চৌধুরি: বাংলায় একটা প্রবাদ আছে তোমারে বধিবে যে নিরবে বাড়িছে সে। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে নিরবে বাড়ছে বামপন্থীরা, অথচ সংবাদ মাধ্যমে কোন প্রচার নেই। কারণ, একশ্রেণীর সংবাদ মাধ্যম পশ্চিমবাংলার রাজনীতিতে মাত্র দুটি দলের অস্তিত্বকে কল্পনা করে চলেছে। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস অন্যদিকে বিরোধী হিসাবে শুধুমাত্র বিজেপি রয়েছে বলে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমগুলিতে। কিন্তু বাস্তব সত্য হচ্ছে বিগত কয়েক মাস ধরে পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন জেলাতে বামপন্থীদের সভা সমাবেশে যেভাবে জনসমাগম হচ্ছে তাতে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে বামপন্থীরা নীরবে বাড়ছে। তুলনায় বিজেপি দল তার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

প্রতিদিন বিকেলে নিয়ম মত বিরোধী দলনেতা হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে নানা কথা বললেও বাস্তবে বাংলার মাটিতে বিজেপির সংগঠন নেই বললেই চলে। কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল এবং সোশ্যাল মাধ্যমে যেভাবে বিজেপিকে তুলে ধরার চেষ্টা করছে তাতে আর যাই হোক বাংলার মাটিতে তেমন কোন অস্তিত্ব এখনো বিজেপির নেই।


সম্প্রতি বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসু একটি চিঠিতে দলের সর্বভারতীয় সভাপতিকে জানিয়েছেন যে এই রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করতে গিয়ে আসলে বামপন্থীদেরকে এগিয়ে দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ মালদা এবং উত্তর দিনাজপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বাড়ছে কংগ্রেস। সম্প্রতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন ব্লকে ব্লকে সভা করতে গিয়ে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে চলেছেন। অন্যদিকে বীরভূম জেলাতে যেভাবে বামপন্থীরা বেড়ে চলেছে তা নিঃসন্দেহে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কলকাতা শহরের পাশে হাওড়া জেলাতে বামপন্থীদের হঠাৎ করে উত্থান চিন্তায় রাখবে শাসকদলকে। আসলে সিপিএম দলের উত্থানের মূল কারণ হলো সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগের যে মামলা হাইকোর্টে হয়েছে এবং যার ফলে এই দুর্নীতির তদন্ত সিবিআই করছে,এর নেপথ্যে রয়েছে সিপিএম দলই। মোহাম্মদ সেলিম সূর্যকান্ত মিশ্র বিমান বসুরা প্রতিদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অকারনে আক্রমণ না করে যেভাবে দলের সংগঠনকে মজবুত করছে তা থেকে বিজেপিকে শিক্ষা নেওয়া উচিত বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

কারণ সিপিএম বুঝতে পারছে, শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করলেই হবে না একই সঙ্গে তাদের বার্তাকে গ্রামগঞ্জে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারে সমবায় সমিতির নির্বাচনে যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেস হেরে গেছে তার নেপথ্যে রয়েছে বামপন্থীদের পরিকল্পনা। বামপন্থীদের কাছে এইভাবে পরাস্ত হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের বিভিন্ন নেতা বিভিন্নভাবে তার ব্যাখ্যা দিলেও আসল কথা হলো গ্রামবাংলায় তৃণমূল নেতারা এই মুহূর্তে অনেকটাই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এর কারণ একটাই তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চায়েত স্তরে যেসব নেতাকে প্রশ্রয় দিয়েছে কিংবা লালন পালন করেছে তারা প্রত্যক্ষ হোক এবং পরোক্ষভাবেই হোক নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য থেকে শুরু করে প্রধান পর্যন্ত সবাইকে একপ্রকার চোর বলে ভেবে নিচ্ছে। যেটা দলের পক্ষে খুব ভালো বলে মনে হচ্ছে না।

আর গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মত সিপিএম দলও প্রতিটা জেলাতে ইউনিট খুলে বসেছে যেখানে বলা হচ্ছে যে আপনারা চোর ধরুন জেলে পুরুন এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটা নেতার কর্মকাণ্ড পোস্ট কার্ডের মাধ্যমে লিখে দলীয় দপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে এবং যেকোনো সাধারণ মানুষ এই ধরনের অভিযোগ করতে পারবে বলে সিপিএমের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে জনমানষে সিপিএমের জনসমর্থন দিন দিন বাড়ছে, এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

একথায় স্পষ্ট করে বলে দেয়া যায় রাজনৈতিক মহলের যেটুকু খবর আমরা জানি এবং ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে বাংলার জনরব যা যা এতদিন ধরে ভবিষ্যৎবাণী করেছে তার প্রেক্ষিতে আমরা বলতেই পারি যদি আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন সুষ্ঠু এবং অবাধভাবে হয় তাহলে এই রাজ্যের অর্ধেক আসন হেরে যাবে শাসক তৃণমূল দল এ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

